• ১১ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Chief Secretary

কলকাতা

নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার, “বিনাশকালে বুদ্ধি নাশ” মন্তব্যে তোলপাড়

রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সহ একাধিক ইস্যুতে পথে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মিছিলে যোগ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাতের মধ্যে বার্তা পেয়ে তিনি অবাক হয়ে যান। তাঁর প্রশ্ন, মধ্যরাতে এভাবে কোনও রাজ্যের মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়া কি আগে কখনও দেখা গিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগে এই ধরনের ক্ষেত্রে রাজ্যের কাছে কয়েকটি নাম চাওয়া হত এবং সেখান থেকে নির্বাচন করা হত। কিন্তু এবার কোনও প্রক্রিয়া মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্ত যেন জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, যাঁকে সরানো হয়েছে তিনি একজন বাঙালি মহিলা আধিকারিক। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের মধ্যে নারী বিদ্বেষের ইঙ্গিত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার প্রতি এক ধরনের বিরূপ মনোভাব দেখানো হচ্ছে।মিছিলের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যদি কেউ মনে করে ভয় দেখিয়ে তাদের থামানো যাবে, তা হলে তারা ভুল করছে। তাঁর কথায়, লড়াই করতে হলে তারা প্রস্তুত।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, শুধু বাঙালি আধিকারিক নয়, অবাঙালি আধিকারিকদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পিযুষ পাণ্ডে নামে এক আধিকারিককেও বদলি করা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল এবং রাজ্যের মতামত নেওয়া হল না।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই বিষয়টিকে বাঙালি এবং অবাঙালিদুই সম্প্রদায়ের সঙ্গেই যুক্ত করে দেখাতে চাইছেন। তাঁর মতে, যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নির্দেশ মেনে চলে তাদেরই পছন্দ করা হচ্ছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে দুই ধরনের ভোটারের কাছেই বার্তা দিতে চাইছেন। বিশেষ করে এমন এলাকায় যেখানে বাঙালি ও অবাঙালিদুই সম্প্রদায়ের ভোটই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী নির্বাচনে সেই ভোট সমীকরণ কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।

মার্চ ১৬, ২০২৬
কলকাতা

চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়নি কেন? জবাব চাইল কমিশন

এসআইআর ও ভোটার তালিকা পরিমার্জন নিয়ে দিল্লিতে প্রশ্নের মুখে বাংলার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। কাজ বিলম্বের দায় রাজ্যের ওপর চাপাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের প্রস্তুতি নিয়েও চাইল রিপোর্ট।ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দিল্লিতে প্রশ্নের মুখে পড়লেন বাংলার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, জাতীয় নির্বাচন কমিশন-এর ফুল বেঞ্চের বৈঠকে তাঁকে একাধিক বিষয়ে জবাব দিতে হয়।কমিশনের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য যে পদমর্যাদার আধিকারিকদের চাওয়া হয়েছিল, রাজ্য সময়মতো তা দেয়নি। তার ফলেই ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি। এই বিলম্বের দায় রাজ্যের ওপরই চাপিয়েছে কমিশন।তবে মুখ্যসচিব বৈঠকে জানান, রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে এক দফতর থেকে অন্য দফতরে আধিকারিকদের দ্রুত সরানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু কমিশনের দাবি, যেসব আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজ্য গড়িমসি করছে।এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের দরবারে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। রাজ্যকে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিতে বলা হলেও তা জমা পড়েনি বলে অভিযোগ। চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। এই সমস্ত বিষয়েই ব্যাখ্যা চাইতে মুখ্যসচিবকে তলব করা হয়েছিল। সমন মেনে তিনি দিল্লিতে হাজির হন এবং বৈঠকে অংশ নেন।এদিনের বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ভোটের আগে নির্দেশিকা অনুযায়ী আধিকারিক বদলির কী অবস্থা, তা জানতে চেয়েছে কমিশন। প্রশাসনিক প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।রাজ্য সরকার যে রিপোর্ট দেবে, তার ভিত্তিতেই কত দফায় ভোট হবে, তা নির্ধারণ করবে কমিশন। পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো পাওয়া গেলে ভোটের দফা কমানো সম্ভব হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
কলকাতা

আজই কি বদল মুখ্যসচিব? ৩১ ডিসেম্বরেই শেষ মনোজ পন্থের মেয়াদ, জল্পনা তুঙ্গে

রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যসচিব কে হতে চলেছেন, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। তিনি আগে ছমাসের এক্সটেনশনে ছিলেন। ভোটের আগে তাঁর মেয়াদ আরও ছমাস বাড়ানোর জন্য রাজ্য সরকারের তরফে কেন্দ্রের ডিওপিটি-তে আবেদন পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই আবেদনের কোনও উত্তর এখনও পাওয়া গিয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না।এই পরিস্থিতিতে নানা নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রশাসনিক মহলে। সূত্রের খবর, যদি মনোজ পন্থের মেয়াদ আর না বাড়ানো হয়, তা হলে মুখ্যসচিব পদের দৌড়ে রয়েছেন নন্দিনী চক্রবর্তী, বরুণ রায়, অত্রি ভট্টাচার্য এবং প্রভাত মিশ্রের মতো অভিজ্ঞ আমলারা। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে রাজ্য প্রশাসন।প্রসঙ্গত, এর আগে মনোজ পন্থের মুখ্যসচিব হিসেবে থাকার কথা ছিল চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ ও কর্মিবর্গ দফতর থেকে ছাড়পত্র মিলায় তাঁর মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। ডিওপিটি-র তরফে মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছিল, রাজ্য সরকারের আবেদনের ভিত্তিতেই এই এক্সটেনশন দেওয়া হচ্ছে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ অগস্ট ভগবতী প্রসাদ গোপালিকার জায়গায় মুখ্যসচিবের দায়িত্ব নেন মনোজ পন্থ। গোপালিকার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্যও রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছিল, কিন্তু সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি কেন্দ্র। তারপরই মুখ্যসচিবের দায়িত্ব পান মনোজ পন্থ। এবার তাঁর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না, তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
কলকাতা

ফের মুখ্যসচিবকে ৭ দিন সময় দিয়ে টুইট হুঁশিয়ারি রাজ্যপালের

শুভেন্দু অধিকারীকে নেতাই যেতে বাধা-কাণ্ডে আবারও রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত। আবারও মুখ্য সচিব এইচ কে দ্বিবেদীকে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ৭ দিন সময় দিলেন রাজ্যপাল। এরপরও রিপোর্ট না এলে, তা অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুল ভাঙা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।বুধবার সকালে একটি টুইট করেন রাজ্যপাল। তাতে লেখেন, রাজ্যের মুখ্যসচিবকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হল। কেন শুভেন্দু অধিকারীকে নেতাইয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়, তার জবাব দিতে হবে। তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। যদি তা অমান্য হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে শাসকের আইন, আইনের শাসন নয়।Re: LOP @SuvenduWB-Netai Martyrs Day programme.CS @MamataOfficial H.K. Dwivedi @IASassociation to comply directives explain defiance in a week.Such treatment of LOP @WBPolice in spite of judicial order reflects Law of ruler, not rule of law and cannot be countenanced. https://t.co/H5rhS4i0SY pic.twitter.com/q96i6dD6MT Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) January 19, 2022প্রসঙ্গত, এই ইস্যুতেই গত বুধবারই একটি পোষ্ট করেন রাজ্যপাল। ইস্যু ছিল তলব সত্ত্বেও রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজির রাজভবনে অনুপস্থিতি। তাতে তিনি লিখেছিলেন, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। পরপর তিন দিন তাঁরা সেই তলব এড়িয়ে গিয়েছেন। অর্থাৎ রাজভবনে আসেননি তাঁরা। কার নির্দেশে তাঁরা রাজভবন বয়কট করেছেন, সে প্রশ্ন তুলে দুদিন আগেও একটি টুইট করেছিলেন তিনি। এদিনও করলেন। বিষয়বস্তু একই। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, মুখ্যসচিব ও ডিজির রাজভবনে না আসাটাকে তিনি বয়কট বলেই উল্লেখ করেছেন। রাজ্যপালের কথায়, এটি একটি অমার্জনীয় সাংবিধানিক গাফিলতি।

জানুয়ারি ১৯, ২০২২
কলকাতা

অমার্জনীয় সাংবিধানিক অপরাধ করেছেন ডিজি ও মুখ্যসচিব, ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল

ফের রাজ্যের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বার বার তলব করা স্বত্ত্বেও রাজভবনে আসেননি রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী ও রাজ্য পুলিশের ডিজিপি। তাঁদের ওই ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ খুললেন ধনখড়। বুধবার একটি ভিডিও টুইট করেন তিনি। সেখানে তাঁর মন্তব্য, রাজ্যপালকে বয়কট করেছেন মুখ্যসচিব ও ডিজিপি। একাধিক বার তলব করার পরও তাঁরা সাড়া দিচ্ছেন না।গত সপ্তাহে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নেতাইয়ে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরও কেন পুলিশ বাধা দিল তা জানতে চেয়ে মুখ্যসচিব ও পুলিশের ডিজিপি-কে তলব করেন রাজ্যপাল। ওই ঘটনায় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাঁরা ধনখড়ের ডাকে সাড়া দেননি।বুধবার সকালে একটি টুইট করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তাতে তিনি লেখেন, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। পরপর তিন দিন তাঁরা সেই তলব এড়িয়ে গিয়েছেন। অর্থাৎ রাজভবনে আসেননি তাঁরা। কার নির্দেশে তাঁরা রাজভবন বয়কট করেছেন, সে প্রশ্ন তুলে দুদিন আগেও একটি টুইট করেছিলেন তিনি। এদিনও করলেন। বিষয়বস্তু একই। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, মুখ্যসচিব ও ডিজির রাজভবনে না আসাটাকে তিনি বয়কট বলেই উল্লেখ করেছেন। রাজ্যপালের কথায়, এটি একটি অমার্জনীয় সাংবিধানিক গাফিলতি।Constitutionally ordained to preserve, protect and defend the Constitution and the law would now ensure that CS @MamataOfficial DGP @WBPolice get into constitutional groove.These officials @IASassociation @IPS_Association have spinally damaged the reputation of top services. pic.twitter.com/ZeYmt62uLi Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) January 12, 2022রাজ্যপালের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, রাজ্যপালের কাজই তো রাজ্যকে উত্যক্ত করা। বিজেপির মুখপাত্র হয়ে কাজ করছেন। আইন অনুযায়ী যা যা করতে হয় রাজ্য তা করছে। সংবিধান অনুযায়ী যেটা করা যায় না, রাজ্যপাল তা করছেন। আবার এটাকে সাংবিধানিক সংকট হিসাবে দেখছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি-র মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূল ধারাবাহিক ভাবে রাজ্যপালের বিরোধিতা করে আসছে। তারা যে রাজনীতিতে বিশ্বাস করে তাতে সংবিধান দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তৃণমূলের আচরণ যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর পরিপন্থী। এই অবস্থানের মাধ্যমে সাংবিধানিক সংকট তৈরি করে দিয়েছে তৃণমূল।

জানুয়ারি ১২, ২০২২
কলকাতা

Dhankhar: কার নির্দেশে এলেন না? ফের মুখ্যসচিব ও ডিজির জবাব তলব রাজ্যপালের

রাজ্যপালের তলব পেয়েও রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ প্রধান সোমবার বেলা ১১টার মধ্যে হাজির হননি রাজভবনে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে চিঠি লিখে রাজ্যের দুই শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্দেশ মেনেই করোনা পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ করছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল এ বার মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী এবং ডিজি মনোজ মালব্যর কাছে জানতে চাইলেন, কার কাছ থেকে তাঁরা ওই নির্দেশ পেয়েছেন।নেতাইয়ে যেতে না পারায়, অভিযোগ জানিয়ে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যপালের কাছে অভিযোগপত্র পাঠান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে, রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী ও রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্যকে রাজভবনে তলব করেন তিনি। সোমবার, সকাল ১১টার মধ্যে তলব করেছিলেন তিনি। এ দিন ১১টার কিছু আগেই আসতে না পারার কথা জানিয়ে দেন মুখ্যসচিব ও ডিজি।এই চিঠি পাঠানোর পিছনে কার নির্দেশ রয়েছে? সেই প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। মুখ্যসচিব এবং ডিজি কী ভাবে বৈঠক বাতিল করলেন, তাতে হতবাক তিনি। সোমবারই তাঁদের এই বিষয়ে জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন রাজ্যপাল।

জানুয়ারি ১০, ২০২২
কলকাতা

Governor: বিএসএফ-রাজ্য পুলিশ সমন্বয়ে পদক্ষেপের নির্দেশ রাজ্যপালের

রাজ্যপাল জগদীপ ধানখড়ের ডাকে সাড়া দিয়ে মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী এবং স্বরাষ্ট্র সচিব ভগবতী প্রসাদ গোপালিকা শনিবার বিকালে রাজভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। রাজ্যপাল নিজেই টুইট করে জানিয়েছেন সেকথা । কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় সাধন নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে বলে টুইট করে জানান রাজ্যপাল।প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁদের এই বৈঠক চলে।সম্প্রতি বিএসএফ এর এক্তিয়ার বৃদ্ধি নিয়ে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নয়া বিজ্ঞপ্তির পর তা নিয়ে আপত্তি জানান পশ্চিমবঙ্গ ও পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দেন প্রধানমন্ত্রীকে। সম্প্রতি দুই দিনাজপুরের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এ নিয়ে মন্তব্য করেন।তার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যপাল এদিন মুখ্য ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন,বিএসএফ-এর সঙ্গে রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ের লক্ষ্যে পদক্ষেপ করুন।কলকাতার পুরভোটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিভিন্ন বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে আচার্য হিসাবে তাঁর সুপারিশ কতটা কার্যকর হয়েছে প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্তার কাছে তাও জানতে চান রাজ্যপাল।

ডিসেম্বর ১১, ২০২১
রাজ্য

School Opening: ১৫ নভেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খুলবে, বড় ঘোষণা মমতার

শিলিগুড়িতে সোমবার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও কলেজ খোলার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখ্যসচিবকে বলেন, পুজোর মরশুম শেষ হতেই, অর্থাৎ ছট পুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোর পর স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়। তার আগে প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্কুল-কলেজ খোলার আগে প্রস্তুতির সময় দিতে হবে। দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ ছিল। তাই কিছুটা সময় দিতে হবে স্কুলগুলিকে যাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ পরিকাঠামোগত কাজ সেরে ফেলতে পারেন। তার পরেই স্কুল শুরু হবে।গত বছর ১৬ মার্চ থেকে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রী প্রাথমিকভাবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পর করোনা সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় আর স্কুল-কলেজ খোলা হয়নি। বন্ধ করা হয় বেশ কিছু পরীক্ষাও। তার পর করোনা সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় ২০ মাস পর স্কুল খোলার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ দিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে একাধিক পরিকাঠামো গত সমস্যা তৈরি হয়েছে স্কুল কলেজগুলির। সেগুলি আগামী কয়েকদিনে যাতে সামলে নেওয়া যায়, তার জন্যও বেশ কিছুটা সময় নির্দিষ্ট করে রাখার কথা বলেছেন তিনি।স্কুল খোলার সিদ্ধান্তে অবশ্য ভিন্ন মত পোষণ করছে চিকিৎসকমহল। আরও বেশ কিছুটা সময় দেখে নেওয়া উচিত ছিল বলে মত অনেকেরই।আবার অনেকেই মনে করছেন, স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত একেবারেই ঠিক।

অক্টোবর ২৫, ২০২১
কলকাতা

রাজ্যের নতুন মুখ্য সচিবকে তলব করলেন রাজ্যপাল

রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা এবং ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে টুইটারে ফের শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় । সেই সঙ্গে আগামিকাল, সোমবার মুখ্য সচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীকে ডেকে পাঠিয়েছেন রাজভবনে।বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় প্রাণ গিয়েছিল অন্তত ১৬ জনের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তৃণমূল-বিজেপি দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীরই মৃত্যু হয়েছিল। যদিও সে সময় দায়িত্বে কমিশন ছিল বলেই জানিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন তুলে যাচ্ছেন রাজ্যপাল। রাজ্যে হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভোটের পর থেকে বিরোধীরা যে অত্যন্ত ভয়ের সঙ্গে দিন কাটাচ্ছেন, সে কথাও টুইটে উল্লেখ করেন ধনখড়। তিনি লেখেন, রাজ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। এহেন অবস্থায় তাই মুখ্য সচিবকে সোমবার রাজভবনে ডাকা হয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসা ঠেকাতে রাজ্য কী পদক্ষেপ করেছে? আইন শৃঙ্খলা নিয়ে তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হবে।Extremely alarming law order scenario @MamataOfficial. Security environment is seriously compromised.In such a grim situation called upon Chief Secretary to brief me on the law and order situation on Monday 7th June and indicate all steps taken to contain post poll violence. pic.twitter.com/REf0JDTpcQ Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) June 6, 2021তিনি আরও লেখেন, বিরোধীদের ভোট দেওয়ার সাহস দেখানোর শাস্তি পাচ্ছেন অনেকে। বিরোধীদের সামাজিক বয়কট করা হচ্ছে। এখনও পুরোদমে ভোট পরবর্তী হিংসা চলছে। যা মানবতার লজ্জা। অথচ প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। পুলিশও নীরব দর্শকে পরিণত হয়েছে। জগদীপ ধনখড়ের মন্তব্যের পরই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলে দেন, বিজেপির দালালের মতো কথাবার্তা বলছেন রাজ্যপাল। যা তাঁর একেবারেই শোভা পায় না। নির্বাচনের আগে বারবার পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন। রাজ্যপাল হিসেবে তা করা যায় না। কুণাল ঘোষের পালটা দিয়ে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, রাজ্যপাল বর্তমানে বাংলার আসল পরিস্থিতিটা তুলে ধরছেন। আর সেটাই সহ্য হচ্ছে না শাসকদলের।

জুন ০৬, ২০২১
রাজনীতি

আলাপনকে ফেরাতে করজোড়ে প্রধানমন্ত্রীকে আবেদন মমতার

প্রাকৃতিক সাইক্লোন কেটে গেলেও বঙ্গে রাজনৈতিক ঘূর্ণিঝড় যেন কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। ৩ মাসের মেয়াদ বৃদ্ধি করার পরও আচমকাই রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা । কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপকে পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিহিংসামূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। মমতার তোপ, আলাপন কি একজন বাঙালি আমলা বলেই এত রাগ? প্রধানমন্ত্রীর কাজে করজোড়ে তাঁর অনুরোধ, এই নির্দেশ প্রত্যাহার করুন। এই নোংরা খেলা খেলবেন না।শুধু তাই নয়, মমতার বিরুদ্ধে রাগ মেটাতেই কি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে এভাবে ডেকে নেওয়া হয়েছে? এই প্রশ্নও সরাসরি কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত এবং নিয়োজিত এই আধিকারিকরা কিন্তু রাজ্যের আওতাধীন। উল্লেখ্য, গত ১০ মে মমতা একটি চিঠি লিখে আলাপনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন মমতা। কারণ হিসেবে চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে দক্ষ আমলা প্রয়োজন। সেই মতো গত ২৪ মে পালটা চিঠি দিয়ে ৩ মাসের জন্য আলাপনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে কেন্দ্র।কিন্তু গতকাল যশ পরবর্তী রিভিউ বৈঠকে নতুন করে কেন্দ্র-রাজ্যে তরজার কিছুক্ষণের মধ্যেই চিঠি লিখে আলাপনকে অব্যাহতি দিতে বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভের সুরে এ দিন মমতা বলেন, মুখ্যসচিবের কী দোষ ছিল? উনি আমার সঙ্গে কাজ করছিলেন। মুখ্যসচিব তো একজন রাজ্য সরকারের আধিকারিক। হতেই পারে তাঁকে কেন্দ্র নিয়োগ করে। কিন্তু ওঁরা তো রাজ্যের হয়ে রাজ্যের জন্য করেন। কিন্তু কোনও আলোচনা ছাড়াই এমন নোটিস দেওয়ার মানেটা কী? আপনাদের কোনও সৌজন্য নেই?স্বাধীনতার পর থেকে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি না সেটা নিয়েও এ দিন প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তিনি বলেন, আপনারা শুধু মাত্র আমাকে বিরক্ত করছেন না, আমার মুখ্যসচিবকে, আমার সচিবালয়কে বিরক্ত করছেন। এটা গোটা দেশের আইএএস অফিসারদের অপমান। আমরা বিরাট ব্যবধানে জয় পেয়েছি এটাই কি আমাদের অপরাধ? আমি আপনার কাছে নমস্কার করে বলব প্রধানমন্ত্রী, যদি আপনার কোনও রাগ আমার উপর থাকে, আপনার দুটো পা ধরলে আপনি যদি খুশি হন আমি তাই করব। বাংলার জন্য আমি তাই করতে পারি। কিন্তু দয়া করে এই নোংরা খেলা না খেলে এই নির্দেশ প্রত্যাহার করুন।

মে ২৯, ২০২১
কলকাতা

নাড্ডার কনভয়ে 'হামলা'র ইস্যুতে ফের মুখ্যসচিব, ডিজিপিকে তলব কেন্দ্রের

আইপিএস নিয়ে বিতর্কের ্মাঝেই মুখ্যসচিব এবং ডিজিপিকে তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যদিও রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে এই মুহুর্তে যা পরিস্থিতি এবং কাজের চাপ রয়েছে সে ক্ষেত্রে কোনওভাবেই ডিজিপি এবং মুখ্যসচিবকে ছাড়া যাবে না। ভিডিয়ো কনফারেন্সিং-এ বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনও এ বিষয়ে কোনও জবাব আসেনি কেন্দ্রের তরফে। নাড্ডার দু-দিনের রাজ্যসফরে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল রাজ্য। তাঁকে ঘিরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে। আর তার ওপর হামলার অভিযোগেই কড়া পদক্ষেপ করে কেন্দ্র। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ডিজিকে দিল্লিতে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আরও পড়ুন ঃ তৃণমূলের ক্ষতি হবে না, শুভেন্দুর দলত্যাগ প্রসঙ্গে সুব্রত যদিও নাড্ডা-কাণ্ডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানায়, দিল্লিতে যাচ্ছেন না ডিজি ও মুখ্যসচিব। মুখ্যসচিবের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি দীর্ঘ চিঠিতে রাজ্য সরকার জেপি নাড্ডার সফরে তাঁদের দায়িত্ব, ভূমিকা ও হামলা-পরবর্তী তদন্তমূলক কাজকর্মের বিস্তারিত খতিয়ান ব্যাখ্যা করেছে এবং চিঠির একেবারে শেষে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে, যেহেতু রাজ্য সরকার গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, ফলে মিটিংয়ে স্টেট অফিসিয়ালসদের নিয়ে কেন্দ্রের বসাটা এই মুহূর্তে নিষ্প্রয়োজন।

ডিসেম্বর ১৮, ২০২০
কলকাতা

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ডেকে পাঠালেও দিল্লি যাচ্ছেন না মুখ্যসচিব ও ডিজি

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ডেকে পাঠালেও আপাতত দিল্লি যাচ্ছেন না মুখ্যসচিব-ডিজি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় ভাল্লাকে নবান্নের তরফ থেকে পাঠানো চিঠিতে লেখা হয়েছে, নাড্ডার কনভয়-নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। নাড্ডাকে একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি ও পাইলট কার দেওয়া হয়। তাঁর যাত্রা পথে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই রেঞ্জের ডিআইজি পুরো বিষয়টির দায়িত্বে ছিলেন। আরও পড়ুন ঃ নাড্ডা কেন অপরাধীদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, প্রশ্ন কল্যাণের এছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে ৪ জন এএসপি, ৮ জন ডিএসপি, ১৪ জন ইন্সপেক্টর, ৭০ জন সাব ইন্সপেক্টর-অ্যাসিটেন্, সাব ইন্সপেক্টর, ৮০ জন ব়্যাফ ছিলেন। এছাড়াও ছিল ২৫৯ কনস্টেবল ও ৩৫০ জন সিভিক ভলেন্টিয়ার। বৃহস্পতিবারের ঘটনার প্রেক্ষিতে এখনও সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ও তিনটি মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়াও এই ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু রাজ্য সরকার বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, তাই স্বশরীরে দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি থেকে মুখ্যসচিব-ডিজি-কে অব্যাহতি দেওয়া হোক।

ডিসেম্বর ১১, ২০২০
কলকাতা

অফিস টাইমে রেলকে ২০০ ট্রেন চালানোর প্রস্তাব রাজ্যের

অফিস টাইমে হাও়ড়া-শিয়ালদা মিলিয়ে মোট ২০০টি লোকাল ট্রেন চালানোর জন্য রেলকে প্রস্তাব দিল রাজ্য সরকার। এই প্রস্তাবে রেল কর্তারা সম্মতি দিয়েছেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে কি পরিস্থিতিতে লোকাল ট্রেন চালানো হবে তার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করতে আগামীকাল নবান্নে ফের বৈঠকে বসছে রেল ও রাজ্য। তার আগেই ট্রেন চলাচলের প্রক্রিয়া স্থির করতে এ দিন উভয় পক্ষের বৈঠক হয়। অন্য সময়ে কটা ট্রেন চলতে পারে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রেল। যাত্রীদের মানতে হবে কোভিড বিধি। আরও পড়ুন ঃ কালীপুজোয় বাজি পোড়ানোর বন্ধ রাখার আরজি রাজ্য সরকারের রাজ্যে লোকাল ট্রেন চালানো নিয়ে বুধবার নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। রেলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া, শিয়ালদহ এবং খড়্গপুরের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজাররা। জানা গিয়েছে, তাদের হাতে আরপিএফ সংখ্যা কত তা রেলের তরফে রাজ্যকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও হাওড়া ও শিয়ালদহের কোন রুট দিয়ে রোজ কত যাত্রী কলকাতামুখী হন তারও গড় সংখ্যা জানানো হয়েছে। এই দুটি বিবেচনা করেই নিউ নর্মালে লোকাল ট্রেন সংখ্যা চূড়ান্ত হবে। স্থির হবে বিভিন্ন রুটের কোন স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াবে। জানা গিয়েছে, গ্যালপিং ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। উল্লেখ্য , গত মার্চে করোনা মহামারির জেরে লকডাউন শুরু হওয়া থেকে বন্ধ ছিল কলকাতা ও শহরতলির লোকাল ট্রেন পরিষেবা। কিন্তু আনলক প্রক্রিয়ায় লোকাল ট্রেন চালানোর দাবিতে কয়েকদিন আগেই বিভিন্ন স্টেশনে রেল অবরোধ এবং যাত্রীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। শুরু হয় পথ অবরোধও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সোমবার লোকাল ট্রেন চালানো নিয়ে রেল কর্তাদের সঙ্গে নবান্নে বৈঠকে বসেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর মঙ্গলবার রাজ্যে লোকাল ট্রেন চালানোর জন্য আবেদন জানিয়ে রেল কে চিঠিও দেন তিনি।

নভেম্বর ০৪, ২০২০
কলকাতা

৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ট্রেন চালুর সম্ভাবনা

করোনা অতিমারী আবহে ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ট্রেন চালানোর ভাবনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।লোকাল ট্রেন চালানো নিয়ে সোমবার রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের একটি বৈঠক হয়। সেখানে রেলের তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে , প্রাথমিকভাবে ১০-১৫ শতাংশ ট্রেন চালানো হবে। পরে ২৫ শতাংশ ট্রেন চালানো হবে। আগামী ৫ নভেম্বর এই বিষয়ে আবার বৈঠক হবে। আরও পড়ুন ঃ বিজ্ঞাপনে টাকা খরচ নিয়ে মোদির সমালোচনা তৃণমূলের তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠক শেষে এদিন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রেল কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকার মনে করছে, অতিমারীর কারণে সুরক্ষাবিধি মানতে হবে। কীভাবে যাত্রী স্বার্থ মেটানো যায়, সে ব্যাপারে রূপরেখা বানানো হচ্ছে। কোন রুটে, কোন সময়ে কীভাবে ট্রেন চালানো হবে, তা দক্ষিণ পূর্ব ও পূর্ব রেল নিজ নিজ সেক্টরে পরিকল্পনা করছে। রেল পুলিশ বাহিনী ও রা্জ্য পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই তা চুড়ান্ত করা হবে।

নভেম্বর ০২, ২০২০
রাজ্য

ট্রেন চালানোর আবেদন জানিয়ে রেলকে চিঠি মুখ্যসচিবের

বিশেষ কয়েকজোড়া ট্রেন চালানোর আবেদন নিয়ে রেলকে চিঠি লিখলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব এইচ কে দ্বিবেদী। রেলের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেন তিনি। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে টুইট করে খবরটি জানানো হয়েছে।সেখানে স্বরাষ্ট্রসচিব এইচ কে দ্বিবেদী লিখেছেন , এর আগে মেট্রো চলাচলও যথেষ্ট সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে চালু করতে সক্ষম হয়েছে রাজ্য। এবার রেলের সম্মতি মিললে সকাল ও সন্ধ্যেবেলায় বিশেষ কয়েকজোড়া ট্রেনও ভালভাবেই চলতে পারবে এ রাজ্যে। তাতে জনসাধারণেরও অনেক সুবিধা হবে। হাওড়ার ঘটনা নিয়ে তিনি চিঠিতে লিখেছেন , এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে শুধুমাত্র রেলকর্মীদের জন্য রাজ্যে বিশেষ ট্রেন চালানো হচ্ছে এবং তাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার নেই। স্পেশ্যাল ট্রেনে উঠতে চাওয়া যাত্রীদের প্রতি আরপিএফের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। অন্যদিকে , শনিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রেল ও কেন্দ্রের এই ভূমিকা নিয়ে রাজ্য সরকার ক্ষুব্ধ ও ক্ষুন্ন। আলোচনার মাধ্যমে লোকাল ট্রেন চালানোর জন্য আমরা অনেক আগেই চিঠি দিয়েছিলাম রেলকে। কিন্তু রেল আমাদের কথা শোনেনি। মেট্রো পরিষেবা যেরকম চালু হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সেভাবে লোকাল ট্রেন চালুর জন্য আমরা পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারকে চিঠি দিয়েছি। পূর্ব রেল জানিয়েছে, সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে তারা অফিসার পাঠিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। আরও পড়ুন ঃ বিজেপি-ভাইরাসের ভ্যাকসিন কী? আরামবাগে জানালেন শান্তনু প্রসঙ্গত , আনলক পর্বে রাজ্যে শুধুমাত্র রেলকর্মীদের জন্যই বিশেষ ট্রেন চালানো হচ্ছে। সেই স্পেশাল ট্রেনে উঠতে চাইছেন সাধারণ নিত্যযাত্রীরা। এনিয়ে রেল পুলিশের সঙ্গে যাত্রীদের প্রতিদিন বচসা লেগেই রয়েছে। শুক্রবারের পর শনিবারও যাত্রী বিক্ষোভে উত্তাল হয় হাওড়া স্টেশন চত্বর। রেলকর্মীদের জন্য বরাদ্দ ট্রেনে ওঠার দাবি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে জড়ো হন যাত্রীরা। ক্যাব রোডের গেট দিয়ে ওই যাত্রীরা ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই আরপিএফ বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আরপিএফের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন যাত্রীরা।

নভেম্বর ০১, ২০২০
কলকাতা

বিজেপির নবান্ন অভিযানে আটক ১১৩ঃ মুখ্যসচিব

বিজেপির নবান্ন অভিযান মহামারী আইন ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের পরিপন্থী। কলকাতা ও হাওড়ায় মোট ১১৩ জনকে বিশৃঙ্খলার জন্য আটক করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের এলাকায় ৮৯ জন ও হাওড়া পুলিশের এলাকায় ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই জানালেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে জলকামানে ব্যবহার করা রং নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আরও পড়ুনঃ করোনায় প্রয়াত শিক্ষাবিদ আনন্দদেব মুখোপাধ্যায় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জলে হোলির রঙ মেশানো হয়েছিল। যদি এই বিক্ষোভ-মিছিলের পরবর্তী সময় হট্টগোলকারীদের সহজেই চিহ্নিত করা যায়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এদিন মুখ্যসচিব স্পষ্ট জানান, বুধবার সন্ধ্যাতেই আন্দোলনকারী সংগঠনকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ভাবে মিছিল করতে প্রশাসনও সাহায্য করবে। সেই চিঠির জবাব তো আসেইনি বরং চরম মিছিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল বিজেপি। কোথায় জ্বলন্ত টায়ার ইতিউতি ফেলে দেওয়া হয়, কোথাও বোমাবাজি হয়, এমনকী আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক বিজেপি কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।

অক্টোবর ০৮, ২০২০
কলকাতা

গরহাজির স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজি,রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা মুখ্যসচিবের

রাজ্যপাল ডেকেছিলেন ডিজিপি ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে। রবিবার বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা হত্যার ঘটনায় রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের দুই আধিকারিককে সকাল ১০ টায় তলব করেছিলেন রাজ্যপাল ধনকড়। কিন্তু রাজ্যপালের সেই ডাক উপেক্ষা করেছিলেন ডিজিপি বীরেন্দ্র ও স্বরাষ্ট্রসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী । তার বদলে রাজভবনে গেলেন খোদ মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।টিটাগড়ের বিদায়ী কাউন্সিলর তথা বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের ভূমিকার পুরোটাই মুখ্যসচিব রাজ্যপালকে ব্যাখ্যা করেন তিনি।রাজ্যপাল মুখ্যসচিবের কাছে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন।এরপর রাজ্যপাল টুইটে লেখেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হচ্ছে, সেদিকে অবশ্যই নজর দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।রাজ্যে ঘটে চলা রাজনৈতিক হিংসা এবং ছক কষে খুন করার মতো ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে ডিজিপি ও স্বরাষ্ট্রসচিব কেউই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে না যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এরপর তিনি অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখনও নবান্ন থেকে তিনি কোনও সাড়া পাননি।টুইট করে একথা জানানোর পাশাপাশি তিনি বলেন, নিস্তব্ধতাই যেন অনেক সত্যকে তুলে ধরছে।

অক্টোবর ০৫, ২০২০

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানির শিল্পমহল শিল্পস্থাপনে যথেষ্ট আগ্রহী, দাবি মন্ত্রী তাপস রায়ের

রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল আগ্রহী বলে দাবি করেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিল্পমহলে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর এবং জাপান, মিতসুবিশি-সহ বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা রাজ্যে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর হাব, ডেটা সেন্টার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে একটি শক্তিশালী শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হারানো শিল্পগৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। রাজ্যের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শিল্পনীতি, ল্যান্ড ব্যাংক, ল্যান্ড পলিসি, ইনসেন্টিভ স্কিম এবং Single Window ব্যবস্থাকে কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন GoM বৈঠকের মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি জানান।রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরও কিছু ক্ষেত্রে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। এই প্রসঙ্গে তাপস রায় সরকারের Zero Tolerance নীতির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে যে কোনও ধরনের বেআইনি তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ করবে। অতীতে এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। আইন অমান্য করে কেউ বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে হানা দেয় কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ। ওই অফিসে বসেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তিনি ও ডেরেক ওব্রায়েন অফিসে ছিলেন। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে। সেই কাজে বাধা সৃষ্টি করলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
কলকাতা

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে পুরসভার হানা, ভেঙে ফেলা হল তৃণমূলের সাইনবোর্ড! ধস্তাধস্তি, আটক ১২

তৃণমূলের দ্বিতীয় ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল কলকাতায়। ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের ছাদে থাকা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডকে বেআইনি বলে অভিযোগ তুলে সেটি খুলে দিল কলকাতা পুরসভা। অভিযান ঘিরে পুরকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পুলিশ-পুরসভার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা পুলিশের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পুলিশ পুরসভাকে জানায়, অভিষেকের দফতরের মাথায় লাগানো ওই বড় বিলবোর্ডটি নিয়ম মেনে বসানো হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকেরা বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছন।খবর পেয়ে দফতরে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন-সহ কয়েক জন। পুরসভার আধিকারিকেরা যে নির্দেশের কপি নিয়ে এসেছিলেন, তার বৈধতা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর প্রথম দফায় পুরকর্মীরা ফিরে যান।কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফের পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দফতরে পৌঁছন পুরসভার আধিকারিকেরা। এ বার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বাহিনী হেলমেট পরে দফতরের ভিতরে ঢোকে। যে অংশে সাইনবোর্ডটি ছিল, সেখানে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েক জন নেতা-কর্মী সিঁড়িতে বসে বা শুয়ে পড়ে পুলিশ ও পুরকর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় কয়েক জন পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ছাদে পৌঁছন পুরকর্মীরা। সেখান থেকেই খুলে ফেলা হয় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডটি। পরে তার ভাঙা অংশ ছাদেই পড়ে থাকতে দেখা যায়।এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। ঘটনাস্থল থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং রাজ্যের বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পুরসভার মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।অভিষেক বলেন, তৃণমূলকে মিটিং-মিছিলের অনুমতি না দেওয়া, দলের নেতাদের আক্রমণ করা এবং পার্টি অফিস ও বিলবোর্ড ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ঘাসফুলকে যত কাটা হবে, ততই তা বাড়বে। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই এলাকায় ফুটপাত ও বিভিন্ন দোকানের উপরে একাধিক বিলবোর্ড রয়েছে। অথচ শুধুমাত্র তাঁর দফতরের বোর্ডকেই কেন নিশানা করা হল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বেআইনি নির্মাণ ও অন্যান্য অবৈধ বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটছে তৃণমূল। অভিষেকের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করা হবে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি আদালতে তোলার উদ্যোগ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি শুক্রবার বিষয়টি মেনশন করার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে, এর আগে ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় অভিষেকের সাংসদ কার্যালয়ের একাংশ বেআইনি নির্মাণ-এর অভিযোগে প্রশাসনের তরফে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনাও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তার পর এ বার খোদ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের দলীয় সাইনবোর্ড ভাঙাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল।ঘটনাস্থলে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি অবশ্য তেমন ছিল না। খবর ছড়ালেও বড় কোনও জমায়েত দেখা যায়নি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সন্ধ্যার পর থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটে বাহিনী বাড়িয়ে দেয়। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজায় বিরোধী শিবিরও পিছিয়ে থাকেনি। অভিষেকের দফতরে পুলিশের অভিযান প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, অভিষেক উচ্চমার্গের চার্টার্ড মাফিয়া। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো সময় তাঁর নেই।সব মিলিয়ে, এক সময় তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ৯, ক্যামাক স্ট্রিট এখন নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। একটি সাইনবোর্ড অপসারণকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ১২ জনকে আটক এবং আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিসব মিলিয়ে ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা, উদ্বেগে একাধিক পরিবার

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটকের পরিবারে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে যাওয়া রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে কলকাতা ছাড়াও হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দারা রয়েছেন।বুধবার নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান নামে। ভোটেকোশী নদীর জল আচমকা ফুলে ওঠায় বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। সেই নিখোঁজদের তালিকাতেই রয়েছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া পর্যটকেরা।কলকাতা থেকে নেপাল, তারপর আর কোনও খোঁজ নেইকলকাতার নাকতলা ও কসবার দুই বাসিন্দা রিনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুস্মিতা ভট্টাচার্যও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। দুজনেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন।২১ অগস্ট একটি ৩০ জনের দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন সুস্মিতা। কাঠমান্ডু পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর দলটি কেরুং হয়ে তিব্বত সীমান্তের দিকে এগোয়। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষ দিকে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ।একই ভাবে ২১ অগস্ট নেপালে যাওয়া রিনার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূওনিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত ২১ অগস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের দাবি, বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।সোনারপুরের লোপামুদ্রারও সন্ধান নেইদক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডুও নিখোঁজ। পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, চিন সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন।২১ অগস্ট ৩০ জনের একটি দলের সঙ্গে নেপাল যান লোপামুদ্রা। বুধবার সকালেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকেই ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।দুর্গাপুরের দুই দম্পতিকে ঘিরে উৎকণ্ঠাপশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকেও একাধিক পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। অম্বুজা টাউনশিপের বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ অগস্ট কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপাল যান। দেবাশিস দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মী এবং সঙ্ঘমিত্রা শিক্ষক।একই সঙ্গে দুর্গাপুরের তপোবন সিটি এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতিও নিখোঁজউত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলও নেপালে গিয়ে নিখোঁজ। দুজনেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের কৈলাস যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ। ফলে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।তারকেশ্বরের পর্যটকদের নিয়েও দুশ্চিন্তাহুগলির তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত এবং একই এলাকার ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালও ওই দলের সঙ্গে ছিলেন। পরিবারের দাবি, বুধবার তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাঁদের।স্নেহাশিসের স্ত্রী সোমা দত্ত জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা অভিবাসন দফতরের দিকে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শিলিগুড়ির সমরের খোঁজে কাঠমান্ডু পাড়ি দাদারদার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির শান্তিনগর-বউবাজার এলাকার বাসিন্দা সমর মণ্ডলও নিখোঁজ। ১৬ অগস্ট একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার শেষ বার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়।কৈলাস যাত্রার পথে তাঁর শারীরিক অসুস্থতাও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার কাঠমান্ডু ফিরে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিপর্যয়ের পর আর কোনও খবর না মেলায় ভাইয়ের খোঁজে তাঁর দাদা ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।৬৮ বছরের অনিতাকে ঘিরেও উৎকণ্ঠাহাওড়ার আন্দুল হাটগাছা এলাকার ৬৮ বছরের অনিতা দাসও নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বলে পরিবার জানিয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তাঁর।মঙ্গলবার সকালে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল অনিতার। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ।প্রশাসনের তৎপরতার দিকে তাকিয়ে পরিবারনেপালের বিপর্যয়ের পর একের পর এক পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলার বিভিন্ন পরিবারে। কেউ শেষ ফোনকলের অপেক্ষায়, কেউ আবার আত্মীয়ের খোঁজে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটছে না পরিবারগুলির। উদ্ধারকাজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরাকখন আসে বহু প্রতীক্ষিত সেই ফোন, সেই আশাতেই দিন গুনছেন স্বজনেরা।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

৩১ অগস্টের পরেও কি থাকবে চাকরি? ২৬ হাজার মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন যোগ্য প্রার্থীরা। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে। ফলে নতুন করে শুনানি এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি নিয়ে তাৎক্ষণিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে না।২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের নির্ভুল ভাবে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষক-সংকটের কথা মাথায় রেখে যোগ্য শিক্ষকদের সাময়িক ভাবে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকার কথা ছিল। একই সঙ্গে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে যোগ্য শিক্ষকরা ফের চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়বেন।এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছে, নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। ফলে আপাতত যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হল।তবে এই নির্দেশকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে ২৬ হাজার চাকরি মামলায় যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ। ফলে আপাতত স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি অনিশ্চয়তা কাটছে না।

আগস্ট ২৫, ২০২৬
রাজ্য

লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? বিষয়টা হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী। আসল অভিমুখের সমস্যা দেখুন।

মানবিক আচরণ করুন, পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে কুণালফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পার্কস্ট্রিটের ওই ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশের কাছেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানান তিনি।কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ফুটপাথে বসবাসকারী মানুষও সমাজেরই অংশ। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনও পরিবারের শিশু, মহিলা বা অসহায় সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি।অগ্নিমিত্রা পালের আচরণ ও মন্তব্য প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্যের মূল সুর ছিলকোনও সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অসহায় মানুষকে হেয় বা অপমান করা উচিত নয়। ফুটপাথে কেন কোনও পরিবারকে থাকতে হচ্ছে, সেই বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক সমস্যাটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে। সামাজ মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে কুনাল ঘোষ লেখেন, দিল্লী বা লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? রাস্তায় ভিক্ষুক এ বিষয়টার থেকেও গুরুত্বপূর্ন হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী বলেন কুনাল ঘোষ।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূল শিবির থেকে অগ্নিমিত্রা পালের সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাম নেত্রী কনীনিকা ঘোষও পুরমন্ত্রীর আচরণের নিন্দা করেছেন।যদিও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরমন্ত্রী পদক্ষেপ করেছিলেন। বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।ফলে ফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। একদিকে ফুটপাথবাসী পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি, অন্যদিকে তাঁদের নিরাপত্তার যুক্তিদুই ভিন্ন অবস্থানকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আগস্ট ২৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal